তিন অসুখে স্থায়ী স্বাস্থ্যঝুঁকি

এই সমস্যাগুলোকে আমরা অনেক সময় ‘অসুখ’ বলে পাত্তাই দিতে চাই না। চিকিত্সকের কাছে অন্য কোনো সমস্যা নিয়ে গেলে ‘আর কোনো অসুখ আছে?’ চিকিত্সকের প্রশ্নের উত্তরেও বলা হয় না এগুলোর কথা। আমরা এসবে ভুগলেও হয়তো একে ঠিক ‘অসুখ’ ভাবি না! কিন্তু বিজ্ঞানীরা বলছেন, ‘নানান অসুখ-বিসুখে’র ঝুঁকিকে বাড়িয়ে দিতে পারে এরা। নিদ্রাহীনতা, মানসিক চাপ বা ভিটামিন ডি-এর স্বল্পতাকে খাটো করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। এ থেকেও ঘটতে পারে স্থায়ী স্বাস্থ্যঝুঁকি, ঘটতে পারে বড় ধরনের স্বাস্থ্য বিপর্যয়।

নিদ্রাহীনতা

নিদ্রাহীনতা
‘ইনসমোনিয়া’ বা নিদ্রাহীনতা এক মারাত্মক ব্যাধি। ২০১২ সালে আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের সম্মেলনে উপস্থাপিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, নিদ্রাহীনতার রোগীরা অন্যদের তুলনায় স্ট্রোকের (পক্ষাঘাতের) দ্বিগুণ ঝুঁকিতে থাকেন। গবেষকেরা বলছেন, নিদ্রাহীনতা বাড়তে থাকলে ভুক্তভোগীর রক্তচাপও বাড়তে থাকে, যার ফলে একসময় তাঁর রক্তনালিতে প্রদাহ সৃষ্টি হতে পারে। আর এই নিদ্রাহীনতা দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকলে তা সহজেই পেয়ে বসতে পারে আপনাকে। এমনকি দুর্বল শরীরে এক রাতের অনিদ্রাও রক্তচাপ বাড়িয়ে দিতে পারে আকস্মিকভাবেই। তাই ঘুমানোর চেষ্টা করুন। প্রয়োজনে চিকিত্সকের পরামর্শ নিন অনিদ্রা দূর করতে।

উদ্বেগ-উত্কণ্ঠা-চাপ

উদ্বেগ-উত্কণ্ঠা-চাপ

ব্যক্তিগত কিংবা পারিবারিক, সামাজিক বা পেশাগত অনেক কারণেই প্রায়ই আমরা উদ্বেগ-উত্কণ্ঠায় ভুগতে পারি। পড়তে পারি কঠিন মানসিক চাপের মধ্যে। এই চাপের বিষয়টিকে আমরা কেবল ‘মানসিক’ বলে ভুল করলে চলবে না, এর ‘শারীরিক’ প্রভাবও মারাত্মক। এর স্বাস্থ্যগত ঝুঁকির বিষয়টিও ভাবা জরুরি। এ ছাড়া এ ধরনের উদ্বেগ-উত্কণ্ঠা-চাপ দীর্ঘস্থায়ী হলে তা মস্তিষ্কে স্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে।

গবেষকেরা চল্লিশের কাছাকাছি বয়সের নারীদের ওপর এ বিষয়ে একটি জরিপ চালিয়েছেন। এতে দেখা গেছে, মধ্য তিরিশে থাকা যে নারীরা বেশি চাপের মধ্যে থাকেন (কর্মক্ষেত্রের সংকট, তালাক, পারিবারিক সংকট) তাঁরা শেষ বয়সে ‘স্মৃতিভ্রষ্টতায়’ আক্রান্ত হতে পারেন। স্থায়ী মানসিক চাপের কারণে মস্তিষ্কের ওই সব স্থানে প্রদাহের সৃষ্টি হতে পারে যা কিনা স্মৃতি সংরক্ষণে জরুরি।

ভিটামিন-ডি

Health Bangla | তিন অসুখে স্থায়ী স্বাস্থ্যঝুঁকি

ভিটামিন-ডি স্বল্পতার কারণে শ্বাসনালি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বা এতে সংক্রমণ দেখা দিতে পারে বলে অনেক দিন ধরেই বলে আসছিলেন চিকিত্সকেরা। ২০১৩ সালে ফিনল্যান্ডের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ‘ভিটামিন ডি’ স্বল্পতায় ভোগেন এমন মানুষের নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা যারা প্রচুর ‘ভিটামিন ডি’ গ্রহণ করেন তাঁদের তুলনায় ২ দশমিক ৬ ভাগ বেশি। এ থেকে বোঝা যায় ভিটামিন ডি রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার জন্য অত্যন্ত জরুরি। সপ্তাহে অন্তত তিন-চারবার খোলা আকাশের নিচে ১৫ মিনিট করে রোদ পোহালেই আপনার ভিটামিন ডি-র চাহিদা পূরণ হতে পারে।

বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রায় হয়তো ধীরে ধীরে রোগবালাই মোকাবিলার উপায় আরও বাড়তে থাকবে। কিন্তু সুস্থ থাকার এবং দেহ-মনকে সুস্থ রাখার একটা উপায় আছে, যা কখনোই পুরোনো হয় না। সেটা ব্যায়াম। নিয়মিত হালকা ব্যায়াম করুন। দেহ-মন চাঙা রাখুন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *