হাম প্রতিরোধে সচেতনতা বার্তা
(Measles ও Measles-Rubella vaccine)

হাম প্রতিরোধের মূল উপায়
সময়মতো ২ ডোজ এমআর ভ্যাকসিন গ্রহণ
১ম ডোজ: ৯ মাস বয়সে
২য় ডোজ: ১৫ মাস বয়সে
বিশেষ পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত টিকাদান (Campaign Dose)
অনেক সময়:
হাম প্রাদুর্ভাব (Outbreak) দেখা দিলে
অথবা Herd Immunity নিশ্চিত করার জন্য
সরকারিভাবে অতিরিক্ত এমআর টিকা ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হয়
আমাদের দেশে পূর্বে এ ধরনের জাতীয় ক্যাম্পেইন হয়েছে:
- ২০১৪ সাল
- ২০২০ সাল
বর্তমান পরিস্থিতি (২০২৬):
- হামের প্রাদুর্ভাব আগেই শুরু হওয়ায়
- নির্ধারিত সময়ের আগেই টিকাদান কার্যক্রম শুরু হচ্ছে
সম্ভাব্য টার্গেট গ্রুপ:
- ৬ মাস থেকে ~৫৯ মাস বয়সী সকল শিশু
- (যাদের টিকা সম্পূর্ণ হয়নি বা মিস হয়েছে—সবার জন্য প্রযোজ্য)
হাম ও এমআর ভ্যাকসিন: সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQs)
১. হাম কি?
হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ।
লক্ষণ:
২. হাম কীভাবে ছড়ায়?
- কাশি/হাঁচির মাধ্যমে বাতাসে ছড়ায়
- আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে সহজেই সংক্রমণ হয়
- একজন আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে প্রায় ৯০% সংস্পর্শে থাকা মানুষ সংক্রমিত হতে পারে
৩. হাম কতটা বিপজ্জনক?
হাম গুরুতর জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে:
- নিউমোনিয়া
- ডায়রিয়া
- এনসেফালাইটিস
- অন্ধত্ব
- মৃত্যু (বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে)
৪. এমআর ভ্যাকসিন কী?
এটি একটি যৌথ টিকা যা:
- হাম (Measles)
- রুবেলা (Rubella)
এই দুই রোগ থেকে সুরক্ষা দেয়
৫. বাংলাদেশে এমআর টিকা কখন দেওয়া হয়?
জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি অনুযায়ী:
- ১ম ডোজ: ৯ মাস
- ২য় ডোজ: ১৫ মাস
৬ মাস বয়সে এমআর টিকা দেওয়া যাবে?
রুটিনে নয়
তবে:
প্রাদুর্ভাব বা বিশেষ পরিস্থিতিতে
৬ মাস বয়স থেকে অতিরিক্ত (extra) ডোজ দেওয়া যেতে পারে
৭. এমআর টিকা কি অন্য টিকার সাথে দেওয়া যায়?
হ্যাঁ
একই দিনে, ভিন্ন স্থানে (different site) নিরাপদে দেওয়া যায়
৮. টিকা নেওয়ার পর কি জ্বর হয়?
৫–১০ দিনের মধ্যে হালকা জ্বর হতে পারে
এটি স্বাভাবিক ও সাময়িক
৯. টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কী কী?
সাধারণত:
- জ্বর
- হালকা ফুসকুড়ি
- ইনজেকশন স্থানে ব্যথা
- গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া খুবই বিরল
১০. কারা এমআর টিকা নিতে পারবে না?
- পূর্বে গুরুতর অ্যালার্জি
- গুরুতর অসুস্থতা থাকলে (সাময়িকভাবে স্থগিত)
- ইমিউনোকমপ্রোমাইজড রোগী (চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন)
১১. হাম হলে কি টিকা দরকার?
হ্যাঁ
কারণ:
নিশ্চিত রোগ নির্ণয় সবসময় সম্ভব নাও হতে পারে
ভবিষ্যতে সুরক্ষা নিশ্চিত করা প্রয়োজন
১২. কেন সবাইকে এমআর টিকা নেওয়া জরুরি?
- ব্যক্তিগত সুরক্ষা
- Herd Immunity তৈরি
- মহামারি প্রতিরোধ
১৩. গর্ভবতী মা কি এমআর টিকা নিতে পারবেন?
না
- এটি Live vaccine
- গর্ভাবস্থায় দেওয়া হয় না
- প্রসবের পর দেওয়া যায়
১৪. রুবেলা কেন গুরুত্বপূর্ণ?
গর্ভবতী মা আক্রান্ত হলে শিশুর:
Congenital Rubella Syndrome
জন্মগত হার্ট, চোখ ও কানের জটিলতা হতে পারে
হাম থেকে বাঁচতে ও আরোগ্য লাভের ইসলামি পদ্ধতি
ও তিব্বে নববী (ﷺ) চিকিৎসা :
হামরোগের প্রধান লক্ষণসমূহ :
১. প্রথমে হালকা জ্বর হয়, পরে ধীরে ধীরে ১০৪–১০৫° ফারেনহাইট পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।
২. সর্দি ও নাক দিয়ে পানি পড়া, সাধারণ ঠান্ডার মতো শুরু হয়।
৩. শুকনো কাশি, যা দিন দিন বাড়তে থাকে।
৪. চোখ লাল হওয়া, আলোর দিকে তাকাতে কষ্ট হয়।
৫. মুখের ভেতর সাদা দাগ, গালের ভেতরের দিকে ছোট ছোট সাদা-নীল দাগ দেখা যায়। এটি হামের নির্দিষ্ট লক্ষণ।
৬. লালচে ফুসকুড়ি বের হয়। জ্বর শুরু হওয়ার ৩–৫ দিন পর প্রথমে মাথা ও মুখে দেখা দেয়, পরে ঘাড়, বুকে, পেট ও পায়ে ছড়িয়ে পড়ে।
৭. ফুসকুড়ির জায়গায় সাধারণত চুলকানি থাকে।
৮. শিশু বা রোগী একদম দুর্বল বোধ করে, খাওয়ার আগ্রহ থাকে না।
৯. ডায়রিয়া বা বমি হয়। কিছু ক্ষেত্রে পেটের সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
মনে রাখবেন :
হাম অত্যন্ত সংক্রামক। লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিবেন এবং ইসলামি দোয়া– আল্লাহুম্মা রব্বান নাস, আযহিবিল বা’স, ইশফি আন্তাশ শাফি, লা শিফা-আ ইল্লা শিফাউক, শিফা-আন লা ইউগাদিরু সাকামা। পড়ে ফুঁ দিন। আল্লাহ শেফা দাতা।
রোগ সম্পর্কে ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গি :
হাম একটি প্রাকৃতিক রোগ। ইসলাম রোগকে আল্লাহর পক্ষ থেকে পরীক্ষা, পাপ মোচন ও সাওয়াব অর্জনের মাধ্যম হিসেবে দেখে। নবী (সা.) বলেছেন: “যে মুমিনের শরীরে কাঁটাবিদ্ধ হওয়া বা তার চেয়ে বেশি কষ্ট হয়, আল্লাহ তা দ্বারা তার একটি মর্যাদা বৃদ্ধি করেন এবং একটি পাপ মোচন করেন” (বুখারি)।
হাদিস দ্বারা প্রমাণিত দোয়া:
(দোয়াটি ১০০% ফল দিবে ইংশাআল্লাহ্)—
রাসূলুল্লাহ (সা.) অসুস্থ ব্যক্তির জন্য এই দোয়া পড়তেন:
اللَّهُمَّ رَبَّ النَّاسِ، أَذْهِبِ الْبَأْسَ، اشْفِ أَنْتَ الشَّافِي، لَا شِفَاءَ إِلَّا شِفَاؤُكَ، شِفَاءً لَا يُغَادِرُ سَقَمًا
❑ উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা রব্বান নাস, আযহিবিল বা’স, ইশফি আন্তাশ শাফি, লা শিফা-আ ইল্লা শিফাউক, শিফা-আন লা ইউগাদিরু সাকামা।
❑ অর্থ: হে আল্লাহ, মানুষের প্রতিপালক! কষ্ট দূর করে দিন। আরোগ্য দান করুন, আপনিই আরোগ্যদাতা। আপনার আরোগ্যই প্রকৃত আরোগ্য, এমন আরোগ্য যাতে কোনো রোগ না থাকে।(সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৭৪২)
নিয়ম :
❑ ৩ বা ৭ বার পড়ে রোগীর শরীরে ফুঁ দিন।
❑ পানিতে পড়ে সেই পানি রোগীকে পান করান।
❑ সুস্থ শিশুকেও সুরক্ষার জন্য এই দোয়া পড়ে ফুঁ দেওয়া সুন্নত।
ইংশাআল্লাহ্ রাব্বে কারিম সুস্থতা দান করবেন।
কুরআনি দোয়া :
❑ সূরা ফাতিহা: এটি ‘শিফা’ (আরোগ্য) সূরা হিসেবে পরিচিত। ৭ বার পড়ে রোগীর বুকে হাত রেখে ফুঁ দিন।
❑ আয়াতুল কুরসি (সূরা বাকারা: ২৫৫) – সুরক্ষার জন্য দিনে ১ বার পড়ুন।
❑ সূরা ইখলাস, ফালাক, নাস – সকাল-সন্ধ্যা ৩ বার করে পড়ে নিজের ও পরিবারের ওপর ফুঁ দিন।
তিব্বে নববী চিকিৎসা :
❑ হামের ক্ষেত্রে নিচের পদ্ধতি অনেক কাজে দিবে ইংশাআল্লাহ্।
ক। কালোজিরা + মধু মিশিয়ে খেলে ভাইরাস প্রতিরোধে সাহায্য করে।
খ। ভিনেগার ও লবঙ্গ পানি গার্গেল করলে গলার জ্বালা কমে।
গ। তাল গাছের ছালের রস হামের জ্বরে কার্যকর (ইমাম ইবনে সিনা উল্লেখ করেছেন)।
ঘ। ঠান্ডা পানির সেক ত্বকের ফুসকুড়ির জ্বালা কমায়।
ঘরে বসে না থেকে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া জরুরী। ইসলামে এটা ওয়াজিব। নবী (সা.) বলেছেন, ‘হে আল্লাহর বান্দারা, চিকিৎসা গ্রহণ করো, কেননা আল্লাহ এমন কোনো রোগ দেননি যার নিরাময় দেননি’ (তিরমিজি)।
❑ আক্রান্ত ব্যক্তিকে আলাদা রাখা উচিত। ইসলাম সংক্রামক রোগে ‘আজল’ (আলাদা থাকা) সমর্থন করে। রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘সংক্রামক রোগ থেকে সুস্থ ব্যক্তিকে দূরে রাখো’ (বুখারি)।
❑ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা থাকা। ঘন ঘন হাত ধোয়া, নাক-মুখ ঢেকে রাখা সুন্নত।
সুরক্ষার দোয়া :
❑ সুরক্ষার দোয়া: ‘বিসমিল্লাহিল্লাজি লা ইয়াদুররু মাআস মিহি শাইউন ফিল আরদি ওয়ালা ফিস সামাই, ওয়া হুয়াস সামিউল আলিম’ – সকাল-সন্ধ্যা ৩ বার পড়লে যেকোনো ক্ষতি থেকে সুরক্ষা মেলে (আবু দাউদ)।
❑ অসুস্থ শিশুর জন্য দোয়া: ‘আজহিবিল বা’সা রব্বান নাস..’ (উপরের দোয়া) এবং হাত রেখে ‘আল্লাহুম্মা ইশফি আবদাকা ইয়ানকাউ লাকা আ’দুওয়ান’।
হে আল্লাহ, সমস্ত মুসলিম শিশুদের সব রোগ ও বালা-মুসিবত থেকে হেফাজত করুন।
দ্বীনি ভাই ও বোন!
দ্বীনের পথে এমন সচেতনতা ছড়ানো সাদাকায়ে জারিয়ার অন্তর্ভুক্ত।
গুরুত্বপূর্ণ বার্তা
হাম প্রতিরোধযোগ্য রোগ
সময়মতো টিকা নিন, শিশুকে সুরক্ষিত রাখুন

