চিকুনগুনিয়ার Joint Pain নিয়ে ডাক্তার রা কি বলেন জেনে নিন

চিকুনগুনিয়া সম্পর্কে প্রতিদিনই আমাদের ধারণা বদলাচ্ছে। গত দু’মাস ধরে আমি নিজেও চিকুনগুনিয়া রোগে ভুগছি। প্রথমে বিশেষজ্ঞগণ বলেছিলেন মাসখানেক জয়েন্টে ব্যথা থাকবে। কিন্তু দু’মাসেও ব্যথার কোনো পরিবর্তন দেখছি না। মাঝে মাঝে মনে হয়, ভালো হয়ে গেছি। হাঁটা-চলা স্বাভাবিক থাকে। চার/পাঁচদিন পর দেখি সকালে বিছানা থেকে উঠে দাঁড়াতে পারছি না।

chikungunya-joint-pain

নিজে চিকিৎসক হবার সুবাধে সংশ্লিষ্ট একাধিক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ প্রায় প্রতিদিনই নিচ্ছি। কিন্তু একমাস পূর্বে চিকুনগুনিয়া সম্পর্কে যা ধারণা ছিল তা এখন আমার অনেক বদলাতে শুরু করেছে। এ কথা বললাম এ কারণে যে, একজন চিকিৎসক হিসেবে যখন চিকুনগুনিয়া নিয়ে আমি প্রতিনিয়ত বিভ্রান্ত হচ্ছি তখন সাধারণ রোগীদের বিভ্রান্তি কত প্রকট হতে পারে তা সহজেই অনুমান করা যায়।

এ বিষয়ে আরও জানতে  বিউটি পার্লারে যান? আরেকজনের চর্মরোগ নিয়ে আসছেন নাতো নিজের শরীরে?

চিকুনগুনিয়া Chikungunya রোগ থেকে বাঁচার উপায় কী জেনে নিন

এই রোগের সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক হচ্ছে জয়েন্ট পেইন। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল (সিডিসি)-এর বিশেষজ্ঞগণ বলছেন, চিকুনগুনিয়ার কোনো ভ্যাকসিন নেই, আক্রান্ত ব্যক্তিকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে হবে। পান করতে হবে প্রচুর পানি, ফ্লুইড। রোগীকে পেইন কিলার দেওয়া যাবে না।

চিকুনগুনিয়ার Joint Pain নিয়ে ডাক্তার রা কি বলেন জেনে নিন

আর চিকুনগুনিয়া রোগীদের কতদিন জয়েন্টে ব্যথা থাকবে সে সম্পর্কে বিশেষজ্ঞগণ বলছেন, ক্ষেত্র বিশেষ এ ধরনের সমস্যা এক বছর পর্যন্ত থাকতে পারে। শুধু পেইন নয়, এই রোগে ত্বকের নানা ক্ষতি হতে পারে। বিশিষ্ট চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এমইউ কবীর চৌধুরীর মতে চিকুনগুনিয়ার রোগীদের হাত-পায়ের ত্বকের রংয়ের পরিবর্তন হতে পারে। ত্বকে বিভিন্ন ধরনের পিগমেন্ট পড়তে পারে।

এ বিষয়ে আরও জানতে  শুষ্ক ত্বকের যত্ন

এ ব্যাপারে বিশিষ্ট মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এবিএম আব্দুল্লাহর অভিমত হচ্ছে, চিকুনগুনিয়ার ব্যথা যদি দীর্ঘ মেয়াদি হয় সেক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পেইন কিলার সেবন করা যেতে পারে। শুধু প্যারাসিটামল যথেষ্ট নয়। এছাড়া তিনি জানান, কিছু কিছু ক্ষেত্রে স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ দিয়ে তিনি সুফল পেয়েছেন। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতীত এ জাতীয় ওষুধ সেবন করা যাবে না।

এদিকে চিকুনগুনিয়া রোগ নিয়ে অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসকগণও বিভ্রান্তি তৈরি করছেন। এক একজন চিকিৎসক একেক ধরনের মতামত দিচ্ছেন। এতে সাধারণ রোগীরা আতঙ্কিত ও বিভ্রান্ত হচ্ছে। অথচ প্রয়োজন সচেতনতা, বিভ্রান্তি ও আতঙ্ক নয়।

Leave a Reply