বুকের দুধ কম?

বুকের দুধ কম?

বুকের দুধ কম হওয়া বাংলাদেশের মেয়েদের একটি প্রধান সমস্যা, সাধারণত অপুষ্টি, খাওয়াতে অনীহা, বারবার বাচ্চা নেয়া, পেটে কৃমি ইত্যাদি সমস্যাই আসল কারণ। তবে বুকের দুধ কম হলে চিন্তার কারণ নেই। এটি ধীরে ধীরে ঠিক করা সম্ভব। কিছু নিয়ম মেনে চললে মেয়ের বুকে দুধ চলে আসে অনেক বেশি পরিমাণে। এজন্য সঠিকভাবে স্তনের জন্য, স্তনের বোটার যত্ন নিতে হবে।

 

অনেক সময় মায়ের বুকের দুধ কম হলে বা একদম না হলে অভিভাবকগন ভীষন দুশ্চিন্তায় পরে যান। এমনটি হবার কোনো কারন নেই বরং ধৈর্য্য ধরে এই সমস্যাটিকে সমাধান করতে হবে। যেমন –

১- উভয় স্তনের বোটা কে শিশুর জন্য পাচ মিনিট করে চুষতে দিতে হবে, একেবারে একফোটা দুধ না আসলেই এই কাজটা নিয়মিত করেই যেতে হবে।

২- এই সময়ে শিশুর পুষ্টির চাহিদা মেটানোর জন্য শিশুকে প্রক্রিয়াজাত কৌটার দুধ বা গরুর দুধ খাওয়ানো যেতে পারে কিন্ত লক্ষ্য রাখতে হবে কোনো অবস্থাতেই তা ফিডার বোতলে খাওয়ানো যাবেনা।

 

অবশ্যই বাটিতে করে ছোট্ট চামচে করে তুলে খাওয়াতে হবে। মনে রাখতে হবে ক্ষুধার্ত শিশুকে প্রথমে স্তন বোটার সাথেই ধরতে হবে এবং মিনিট পাচেক চুষবার পরে বাটি ও চামচ দিয়ে অন্য দুধ খাওয়াতে হবে। এভাবে প্রসুতি মা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক দুগ্ধ উৎপাদন করে শিশুর সকল চাহিদা মেটাতে পারবে।

৩- শিশু স্তন চুষবার সময় ম’কে অবশ্যই নিরুদ্বিগ্ন এবং চিন্তামুক্ত থাকতে হবে।

mastercard

৪-মা এর নিজের মনে অবশ্যই এই আস্থা থাকা বাঞ্ছনীয় যে এই প্রক্রিয়ায় দুগ্ধ নিঃসরণ বাড়বে, মা’কে সম্পূর্ণ নিশ্চিত করা অভিভাবক দের দায়িত্ব হিসেবে নিতে হবে। তাকে কখনোই তিরস্কার বা হতাশ করা যাবেনা, তাহলে এটা ফলপ্রসু নাও হতে পারে।

দেখে আসতে পারেন মেয়েদের দুধ বড় করার নিয়ম

৫- মা’কে পর্যাপ্ত আহার করতে হবে, তার নিদ্রা বা বিশ্রামের ও ব্যাঘাত ঘটা যাবেনা। স্তন্য দানের ১৫ মিনিট পূর্বে মা’ দুই গ্লাশ পানি পান করে নিলে স্তন্য দান সহজ হবে।

৬- এই মুহুর্তগুলিতে শিশুকে সবসময় মায়ের সংস্পর্শে রাখতে হবে। মা’ এবং শিশুর মধ্যে এক নিবিড় সম্পর্ক হওয়া এক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

৭- উপরোক্ত ব্যবস্থা গ্রহনের ১৫ দিন থেকে ২০ দিনের মধ্যেও যদি মায়ের বুকে পর্যাপ্ত দুধ না আসে বা কম আসে তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী দুধ বাড়ার ঔষধ গ্রহন করা যেতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে এর আগে দুই থেকে তিন সপ্তাহ ধৈর্য্য ধরলে এম্নিতেই এই সমস্যার সমাধান হয়ে যায়।

৮- কখনো মায়ের দুধ কম হবার কারনে শিশুকে প্রক্রিয়াজাত অন্য দুধ খাওয়াতে হলে মনে রাখতে হবে শিশু প্রথমে মায়ের দুধ টুকু গ্রহন করবে এর পর তার বাড়তি প্রয়োজন অন্য কিছু দিয়ে পূরণ করতে হবে। এ অবস্থাকে ঝামেলাপুর্ন মনে হওয়ায় মায়ের দুধ বন্ধ করে দেয়া যাবেনা, কারণ মায়ের দুধের কোনোই বিকল্প নাই।

Leave a Comment

Your email address will not be published.

error: Content is protected !!